
মোঃ আবু সাইদ, বাংলা প্রতিদিন ডেস্কঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে অবস্থিত ‘ভিআইপি ইমরান ফ্যাশনস’ নামের একটি পোশাকের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে দোকানমালিক ইমরানের বাবা, মা ও চাচি মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা কালিগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫ টার দিকে ইমরানকে তার দোকানে আটকে তালা বদ্ধ করে রাখে তাকে উদ্ধারের জন্য কালিগন্জ থানাকে ফোন দিলে না পেয়ে ৯৯৯ কল করা হলে থানা পুলিশ যেয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে অবস্থিত ভিআইপি ইমরান ফ্যাশনসে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মজনুর ছেলে রাকিবের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল দোকানটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন দোকানসংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, বোরকা, সালোয়ার-কামিজ, প্যান্ট-শার্ট, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রীসহ আনুমানিক ৮০ লাখ টাকার মালামাল এবং নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুরও চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোকানের মালামাল রক্ষায় বাধা দিতে গেলে ইমরানের বাবা, মা ও চাচিকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁদের কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের মালামাল উদ্ধার, জমা রাখা হয়েছে স্থানীয় ব্যক্তির কাছে
ঘটনার পর বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং কিছু মালামাল উদ্ধার করে বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় নুরুজ্জামান পাড়ের কাছে জমা রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
লুটের অভিযোগে মামলা না নিয়ে চুরির এজাহার নেওয়ার অভিযোগ
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে আরেকটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান। তাঁর দাবি, লুটপাটের অভিযোগে মামলা না নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে চুরির মামলা করার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে থানার মনির দারোগার মাধ্যমে চুরির অভিযোগসংবলিত এজাহার লিখিয়ে তাতে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাটির প্রকৃত বিবরণ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুট হওয়া সব মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আহত ব্যক্তিদের ওপর হামলার বিচার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব, সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের এবং কালিগঞ্জ থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা, লুট হওয়া মালামালের প্রকৃত মূল্য এবং মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।