সম্পাদকীয়, মোঃ মনিরুজ্জামান মুকুল। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বাগদা চিংড়ি চাষ। দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাজারো প্রান্তিক চাষি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, নিম্নমানের হ্যাচারির রেণু পোনা এবং বর্তমানে বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের মতো অসাধু কর্মকাণ্ডে চরম সংকটে পড়েছে এ শিল্প।

স্থানীয় চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উচ্চমূল্যে জমি লিজ নিয়ে এবং লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তারা ঝুঁকি নিয়ে চিংড়ি চাষ করেন। কিন্তু বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায়ই চিংড়িতে মড়ক দেখা দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর মধ্যেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে বাজারজাত করছেন।
চাষিদের অভিযোগ, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে রপ্তানি বাজারে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত চাষিরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন সময়ে সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস এবং দায়ীদের জরিমানা করলেও এ অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রান্তিক চিংড়ি চাষিদের দাবি, দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্পকে রক্ষায় অপদ্রব্য পুশের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত ও কঠোর আইন প্রয়োগ
নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হ্যাচারির রেণু পোনার গুণগত মান নিশ্চিত ও চিংড়ি চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানিয়েছেন।
শ্যামনগরের চিংড়ি শিল্পকে রক্ষা করতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দিন দিন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাগদা চিংড়ি তে অপদ্রব্য পুশ করায় সম্প্রতি সাতক্ষীরা আশাশুনিতে বাংলাদেশ রেপিট একশন ব্যাটালিয়নের এক অভিযানে প্রচুর পরিমাণ বাগদা চিংড়ি তাদের গাড়ির চাকায় পৃষ্ঠ করে বিনষ্ট করে। বাগদা চিংড়ীতে অপদ্রব্য পুশ রুখতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি করছে শ্যামনগরের প্রান্তিক চিংড়ি চাষীরা।